65660

আদিবাসীদের অধিকার ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র রক্ষক এবং আমাদের সবার সম্মিলিত ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগর।

​তবে বৈশ্বিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আদিবাসীদের অধিকার এবং সার্বিক কল্যাণ মারাত্মক হুমকির মুখে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। মূলধারার জনসংখ্যার তুলনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং প্রসবকালীন জটিলতার হার অনেক বেশি।

ads

আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ‘ধাত্রী’ বা মিডওয়াইফদের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ ও উদযাপন করা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞ ধাত্রীরা মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াতে এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছেন। আদিবাসী সমাজের জ্ঞানধারী ও নেতৃত্বদানকারী হিসেবে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিজস্ব ভাষা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতেও অবদান রাখছেন।

মহাসচিব বলেন, ​জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আদিবাসীদের অধিকার ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং আদিবাসী প্রতিনিধিদের সাথে যৌথভাবে কাজ চলছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তথ্যভাণ্ডার থেকে আদিবাসী রোগীরা যেন বাদ না পড়েন, সেজন্য যথাযথ তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি, ধাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রসূতি সেবায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে আদিবাসী নারীরা যেন নিজেদের শরীর ও চিকিৎসার বিষয়ে স্বাধীন ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—তাদের সে অধিকার রক্ষার ওপরও তাগিদ দেওয়া হয়।

ads

​প্রথাগত জ্ঞান ও ঐতিহ্যবাহী প্রজ্ঞা নতুন জীবনকে রক্ষা করতে পারে। তাই আদিবাসী প্রসূতি ধাত্রী এবং তাদের সেবাগ্রহীতা সমাজ যেন সুখে-শান্তিতে বিকশিত হতে পারে, সেজন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ad

পাঠকের মতামত